bangla kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bangla kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০১৫

অভাগীর দুঃখের বয়ান

কী কপাল করছিলাম
বলদের হাতে পড়ছিলাম
বলদ যদি মরতো
পরান সুখে ভরতো
কার কাছে হায় এসব কই
কে আছে আর প্রানের সই
উজান দেশে বাপ ভাই
তা ছাড়া আর কেই নাই
কোথায় আছ পাড়া পড়শি
দুঃখে আমার পরান যায়
অই বলদের দাগা আমার কলিজায়
মাঝি ভাই কেড়া যায়
কইও আমার বাপ মায়
অভাগী মইরা গেছে
কবরটা যেন দেইখা যায় ৷

বিশ্ময় বিচিত্রিা

চালাকে কাঠাল খায়
বব্বরে মুখে আঠা
ফজা খাইল আসল দই
বব্বরে খায় মাঠা
গিরস্থে গরম্ন পালে
চোরে পাকায় দড়ি
জহুরি জহর চিনে
মাঝি চেনে কড়ি
মাষ্টারে ছাত্র চিনে
গরম্ন চিনে শিষ্য
কে হবে ধনের ধনী
কে হবে নিঃস্ব
ভাল লোকে ভাল চিনে
মন্দ লোকে মন্দ
ঝগড়াটে ঝগড়া চায়
সদা বাজায় দ্বন্ধ
ভাড়ে ভাড় টানে
পাতলা উড়ে বাতাসে
ভাবুকে অবাক হয়
ভেবে মরে হুতাশে ৷

ডরাই ও কিন্তু

ধাক্কা দিয়ে
ফেলে দিমু
জানিস আমি কেডা
কদম শেখের
ছোট শালা
বদর শেখের বেডা
ভাল চাস তো গদি ছাড়
নইলে কিন্তু
খবর আছে
নইলে কিন্তু মারম্নম বোমা
পাঠায়ে দিমু যমের কাছে৷

প্রভূত


ৰমতার বাঁশি পেয়ে
যেমন ইচ্ছা বাজাও
রঙ্গের এক ঘোড়া পেয়ে
যেমন ইচ্ছা সাজাও
চড়তে জান চড়
দৌড়াও প্রান ভরে
আবার কিন্তু আসতে হবে
ঘরের বেটি ঘরে ৷

পাঁচ বছরের ৰমতা
পাঁটের পঁচা দড়ি
ৰমতা চলে গেলে
বালু চড়ে গড়া গড়ি ৷

গর্ব কর দর্প কর
সবই নিষ্ফল
এই আছে এই নাই
কচু পত্রে জল ৷

জ্ঞানীর জ্ঞান ধনীর ধন
হলে একীভূত
মনি কাঞ্চন সংযোগে
হয় উন্নতি প্রভূত ৷

সুবচন -২

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া
যে বলে বলুক
বাঁধা দিয়ে লাভ কি আর
ওদের মতই চলুক
জোর করে তীর্থ করান
শুভ ফল হয় না
ময়নাকে মুরগি বলা
কেউ কভু কয় না ৷
তুমি বলবে না
না বলস্না
ওরা যা করে
তুমি তা কলস্না  ৷
শানত্মি পাবে বুকে
ল্যাঠা যাবে চুকে ৷

সুবচন-১

মুজিব কখনো কি বলেছেন
আমি জাতির জনক
তবে কেন বাদানুবাদ
বসে হাজার গনক ৷
শেখ মুজিব যা তা রবে
যাবে না মিশ
হলই বা জাতির জনক
তবে, কেন তর্ক
অহর্নিশ ?
যে যা বলে বলুক
বলতে তাকে দাও
ওদের পথে ওরা যাক
তোমার পথে তুমি যাও ৷

একাত্তরে

উনি্নশো একাত্তরে
কত ছিল দুঃখ রে
শরীর কাঁপে শঙ্কায়
গলা শুকায ভয়ে
অই বুঝি আইল দানব
ঘাতক দালাল লয়ে ৷
গুলি করে মারত
কবর নয় গর্ত
রাজাকার লেলিয়ে দিত
মা বোনের ইজ্জত নিত
লাভ হত না কয়ে
শরীর কাঁপতো শঙ্কায়
গলা শুকাতো ভয়ে ৷
ওরা ছিল নর পিচাশ
চুষে খেত হাড় মাস
মারতো পিষে পায়ে
শরীর পড়তো নিথর হয়ে
বেয়ো নেটের ঘায়ে ৷
অচ্যাচারের বদলা নিলাম
বাংলা হতে তাড়িয়ে দিলাম
আমরা গেলাম রয়ে
স্বাধীনতা লয়ে ৷

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৫

ওটাই স্বাধীনতার চিহ্ন

আজ আমার উড়তে মন চাইছে
অমূল্য রতন নামের কি একটা পাইছে
৭১ এর রাত দুপুরে
পুড়েছিল আগুনে
আমার সব বাড়ি ঘর
নগদ অর্থ আপন পর
ও স্থান ভয়ংকর ছিল
যেতে পেতাম ভয়
তাই পালিয়ে মাস নয়
যুদ্ধের ময়দানে
স্বাধীনতার জয়গানে
কাটিয়েছি
শহুরে জালালী কবুতর
বাস করি খোপের ভিতর
দরজা খোলা থাকলেও
পালাই না
উড়তে ভুলে গেছি
চিলে যেমন মেরে
নিয়ে আসে
অমনি নিয়ে এলো
একমাত্র মেয়ে
যে আমার পোড়া বাড়ি
দেখতে চেয়েছিল
সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে
হাঠাত্‍ দেখি ভাঙ্গা টেবিলের নিচে
দুহাত লম্বা শাল কাঠের টুকরা ৷

আমার মা ও এক টুকরা পোড়া কাঠ

আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছি
দেখলে মনে পড়ে সেই দিন
মুক্তির অপরাধে ছাই করে দিল
বাড়ি ঘর সর্বস্ব আমার
অনেক কিছু ছিল
কাল কুটিল খেয়েছে সব
ঐ একটি ছাড়া
গায়ে গেলে মায়ের কবর
আর ঐ টি দেখি
দু খানেই থমকে দাঁড়াই
হাটে বেঁচতে গেলে
কানা কড়ি দাম হবে না
অথচ আমার কাছে অমূল্য নিধি
চাইলেও দেব না হাজারদাম হাকলে
আমি রেখে দেবো
আমার পরে ছেলে
তারপর তার ছেলে
তারপর তার ছেলে
আমার পুতি
তারপর নাতি
তারপর পুতি
এমনি অনাদি অনন্ত কাল রেখে দেব
যা স্বাধীনতায় অংশ নিয়েছিল, ৭১-এ ৷

স্মৃতি বৃক্ষের ডগা টানাটানি

সেই আমার ছোট বেলা
শাপলা শালুক কুড়াতাম
বন্ধুদের নিয়ে লাটিম ঘুরাতাম
ডোবা নালা খাল বিলে মরা গাঙ তাজা গাঙ যেথায় হেতায়
তামাসা করে চুবান দিয়ে ধরত
মরার মত ভেসে উঠে কেঁদেছি
গালি দিয়েছি, প্রতিশোধ নিতে চেষ্ঠা করেছি
ডাহুক কোরার ডিম বা বাচ্চা কুড়িয়ে আনতাম
মা বাবা রাগ করত
ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করত
শশা, বাঙ্গি, কুশুল, পেয়ারা
আম জাম পেয়ারা কলা -- চুরি নয় চুপ করে
আনতাম -- তোমরা চুরি বলতে পার
মারামারি, নিত্য নৈমিতিক কর্মসূচী ছিল ৷
মার খেতাম, দিতাম, পালাতাম
বৃষ্টির দিনে দুয়ারে পিচ্ছল খেলতাম
ভিজে ভিজে ভিজে বেড়াল হয়ে বাড়ি ফিরতাম
কী আশ্চর্য! জ্বর জ্বারি অসুখ বিসুখ হত না তেমন
কামলা জামলা, ভাই বাবাকে চকের কাজে সাহায্য
না তেমন কিছু করতে হত না৷
বন্ধুদের তামাক বিড়ি টানার অভ্যাস ছিল অনেকের
আমি দু একবার টানতাম ঐ মাত্রই ৷
খোর বলতে যা বুঝায় তা নয়
নিতানত্মই দায় পড়ে এই যা
সেই দিন আজ কোথায় গেলো
সবই ছিল ভালো ৷

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

ধান ধানী

ওরা গুলি করে আমার বুকে
ওরা জানে না কার পয়সায় ও গুলি
ওরা কার ভাত খেয়ে আমাকে গুলি
রাসত্মা ঘাটে শহরে বন্দরে নগরে রাজপথে
ওরা গুলি করে আমাকে ভাইকে বাবাকে
ওরা আমাদের দু পয়সার চাকর
ওরা অষ্টম, নবম, দশম শ্রেনী পাশ
আর আমি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উচ্চতম
ডিগ্রি ধারি কিংবা পড়ি
ওরা তো গরম্ন, বিজাতীয় হায়নার শিষ
ওদের রক্তে ওদের নিষ্টুরতা
ওরা তো বাপে তাড়ানো, মায়ে খেদানো
ওরা অভিশপ্ত, জাহান্নামের খড়ি
জ্বলবে অননত্মকাল বুকফাটা চিত্‍কারে
আর ওদের সনত্মানেরা ওদের গুলি করবে
মারবে শিয়াল কুকুরের মত
অনুশোচনার আগুনে জ্বলবে চিরদিন
হাবিয়া দোজখে ৷
ধিক ! ধিক ! শত ধিক ওদেরকে
মানুষ নিষ্ঠাবান
প্রতিশোধ প্রতিশোধ প্রতিশোধ ৷

একূল ওকূল

তোমার ছয়টি ষাঁড়
তার একটি কোরবানী দাও
নইলে নাম মাত্র একটি
ওর রক্ত মাংস কি গ্রহন করে
তবে কেন আধা হাত লম্বা জিহবা কেন
সোনা ফেলে পিতল নিয়ে হাসা হাসি
মন্দিরে কালী পুজো
তোমার ছয়টি পাঠা বলি দাও
যুপ কাষ্ঠে ফেলে
মাথা আর রক্ত মায়ের পিপাসা মিটাবে
ভুল সব ভুল
ভুলে ভুলে সব ভুল
হারালি একূল ৷

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৫

হারজিত

বোঁচা মোলস্না
খায় গোলস্না
নাতি তারি পাশে
খাবার ঢং
করেছে রং
দেখে নাতি হাসে
নাতি খায়
পাঁচটা
দাদা খায়
দুই কেজী
এ নিয়ে দুই জনে
ধরেছিল বাজি ৷
বাজিটা ছিল উল্টো
বেশি খেলে
বাজি ফেল
এটাই ছিল পাল্টা
জিতে গেল নাতি
হেরে গেল দাদা
দাদা ভাই হেসে বলে
আমি হলাম গাধা ৷

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৫

গ্রামের চাল চিত্র

মেঠো পথ খরের ঘর
মনের কোনে আজও জলজল করে
ভূলতে গেলেও ভূলতে পারি না
শত ছলনা করে
বাবা-দাদা চৌদ্দ পুরম্নষের ভিটে মাটি
হাত ছানি দিয়ে আজও ডাকে
মধু মাসের কাঁচা পাকা আমজাম
কাঁঠাল কলা
স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে
চৈতি সকালে পানত্মা ভাত
কি মজা লাগত পিয়াজ
কাঁচা মরিচ মাখিয়ে
হাপুস হুপুস শব্দ করে খাওয়া
ঘুরি উড়ানোর ধুম মাঠে ময়দানে
রাখালের সুরে গান
গায়ের বধূর নদী হতে পানি আনা
দুধেল গাভির হাম্বা রবে ডাক
শীতের পিঠে পায়েস
ভাপা চিতৈ কুলি
পাটি সাফটা
বর্ষায় নতুন পানিতে ঝাপা ঝাপি
বৃষ্টির দাপা দাপি
মাছ ধরা ভূলি নাই
ভুলতে পারি না
চৈত্র পূজা বৈশাখি মেলা
চিনির সাজ বিন্নী ধানের খৈ
আকড়ি জিলাপী
সেকি ভোলা যায়
না ভুলার বিষয় ৷

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৫

ফউত নামাজ

রক্তের রং
পলাশের রং
আর প্রভাতের রং
বেদীতে ফুল দিয়ে এলাম
৩৬৫ দিন
তার একদিন
একটু পাপ হলই বা
তওবা
মওলানা সাব বলেন -
খুশি দিন হাজার পুন্য
কাজা পড়ে নিস্
তাই হবে ৷

বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪

অসহ্য

একটা ভুত চেপে বসেছে আমার মাথার টিকির উপরে
হাত পা নাড়ে আমি শুনতে পাই কামড়ায় কুট কুট করে
অবচেতন মনে থাপড়াই কিন্তু দু:খ পাই
তাই ঠিক করেছি ফেরাউনের মত একটা চাকর রাখব
সদায় মাথায় টুক টুক করে লাঠি পেটা করবে তাকে
ঘুম পেলে ষষ্টাঙ্গে বিচরণ করে বিশেষ করে নাকে
একবার অসহ্য হল ডাক্তার ডাকি
ব্যবস্থাপত্র দিল এলংজানীর ঘোলা পানি
এদোঁ পুকুরের শোল গজার টাকি
এটা এস্তেমাল করলে সেরে যায় আমি জানি
ত্রিভুবন পেচিয়ে বললাম সব জানি
ডাক্তার বলল ওটাই ভূত
দিন করে করে কুত্‍ কুত্‍৷

ভারবাহী


আমি ভারবাহী পশু তাই
আঁধার এখনও পালিয়ে যায়নি
পাখ পাখালি এখনও গায়নি
বন মলি্লকা গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রচুর
বিমান বালা ঠক ঠক করে হেঁটে গেল
ভুর্র্ শব্দ করে নিয়েও একটা টেঙ্ ি
ভোলার বৌ কলসি উঠোন মারাচ্ছে
করিলা শ্বরীর দুধ দোয়াচ্ছে গোয়ালা
পাঁচ কেজিতে এক কেজী পানি
ভোলা ঘৃনা করে
ফল বেঁচে ফল কি ?
ছলের তা জলেই যাবে
দু সবুর দেখাতে পাবে
গদা রাখাল বলদ নিয়ে মাঠে যাচ্ছে
ও যেন আমাকে গ্রাহ্যই করে না
ও একা নয় ওনেকেই তা করে না৷

নিরুদ্ধেশ

কি যে করি বুঝি না
লিখি কবিতা
লজেন কিনে মুখে দেই
তাও লাগে তিতা৷
গান শুনি ভাল সুরে
কানে লাগে বিষ
এটা ওটা শত ভাবি
মন নিরুদ্ধেশ
চুপ করে শুই খাটে
নরম হয়েও শক্ত
বালিশটা ছুড়ে ফেলি
গরম হয় রক্ত৷
পাশ দিয়ে লোক যায়
মনে হয় মারি ল্যাং
ঝুকি দিয়ে উঁকি মারি
ধরে বসে বাম ঠ্যাং
ওরে বাবা মলেম রে
কে আছ ধর হাত
গিনি্ন বলে, মরন আমার
মরার মানুষের উত্‍পাত৷

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

একদিন

একদিন ভেসে আসত
গান কৃষকের কন্ঠ বেয়ে
সবুজ ঘেরা মাঠ হতে
একদিন কৃষকের ছিল
গোয়াল ভরা গরু
আর গোলা ভরা ধান
পুকুর ভরা মাছ,
আরও ছিল আম কাঠাল
জাম কলা সুপারি পান ৷

বিধান

কেহ রবে পাঁচ তলা
কেহ রবে গাছ তলা
এ নহে বিধাতার বিধান
শোষকের কারসাজি
মনগড়া পুথি পাজি ৷

“শোধ কর”

  পহেলা মে এলো অধিকার নিয়ে, শ্রমিকের পাওনা টাকা দাও তাকে দিয়ে। আজ হতে মহাজন, কর এই পণ— মজুরের লেনা-দেনা মারবে না কখনো। কাজ করে ঘাম ঝরে, তবু ...